নির্বাচিত সরকারের প্রথম ৬ মাস (১৮০ দিন) পূর্ণ হওয়া
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 18, 2026
নির্বাচিত সরকারের প্রথম ৬ মাস (১৮০ দিন) পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) এবং বিভিন্ন খাত থেকে তাদের উন্নয়ন ও প্রধান অর্জনগুলোর একটি বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদী আমলের ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করছে।
বিগত ৬ মাসের প্রধান প্রধান উন্নয়ন ও অর্জনগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণ
- ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন: স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর সহায়তায় "ফ্যামিলি কার্ড" চালু করা হয়েছে, যার আওতায় পাইলট প্রজেক্টে জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৭০,৮৬১ জন নারী প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
- ফার্মার কার্ড ও কৃষিঋণ: কৃষকদের সহায়তায় "ফার্মার কার্ড" চালু করা হয়েছে, কৃষিঋণ মওকুফ এবং ২০,৮৩২ জন কৃষককে সরাসরি নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
- ভাতা বৃদ্ধি ও বকেয়া পরিশোধ: খেতাবপ্রাপ্ত ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের বড় অংশকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা বাবদ ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
২. অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার
- ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট ২০২৬: ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন বা মার্জ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে এই আইন পাস করা হয়েছে।
- ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে তহবিল: দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং কৃষকদের সহজ শর্তে অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ১৯,০০০ কোটি টাকার ৪টি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে।
- বিনিয়োগ সহজীকরণ ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস: ব্যবসা শুরুর লাইসেন্স ও অনুমোদন পাওয়ার সময় ১ বছর থেকে কমিয়ে মাত্র ১৪ দিনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিডা (BIDA)-তে সমন্বিত সিঙ্গেল উইন্ডো সেবা চালু করা হয়েছে।
৩. স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান
- স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: স্বাস্থ্য খাতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০% নারী। পাশাপাশি ৫,০০০ নতুন ডাক্তার নিয়োগ এবং উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের কাজ চলছে।
- নতুন প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান: তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ক্রেডিট সাপোর্ট ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
৪. অবকাঠামো ও অন্যান্য উন্নয়ন
- মেগা প্রজেক্টের অগ্রগতি: দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের অংশ হিসেবে 'পদ্মা ব্যারাজ' এবং 'তিস্তা মাস্টার প্ল্যান' এর মতো মেগা প্রজেক্টগুলোর কাজকে সরকার এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
- জ্বালানি ও বিদ্যুৎ: প্রিপেইড বৈদ্যুতিক মিটারের অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহার এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
- বন্ধ কলকারখানা চালু: ১৪টি বন্ধ পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ৯টি পাটকলে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে।
- পরিবেশ রক্ষা: দেশজুড়ে ২ কোটি ২২ লাখেরও বেশি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে এবং প্রায় ২,১৬৫ কিলোমিটার খাল পুনর্খনন করা হয়েছে।
৫. আইন, বিচার ও সংসদ
- আইন পাস ও বিচার গতিশীলতা: ১৩তম সংসদের মাত্র ৫২ কার্যদিবসে রেকর্ড ১০৫টি বিল পাস করা হয়েছে। বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর হত্যা ও নিপীড়ন মামলার দ্রুত ট্রায়াল সম্পন্ন করে রায় দেওয়া হয়েছে।
- প্রটোকল ও ব্যয় সংকোচন: প্রধানমন্ত্রী নিজের রাষ্ট্রীয় প্রটোকল হ্রাস, ভিআইপি সুবিধা ত্যাগ এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে একটি জনমুখী শাসনের নজির স্থাপনের চেষ্টা করছেন।
আপনার মতামত লিখুন :